| |

দেশের টিকা ‘বঙ্গভ্যাক্স’

প্রকাশঃ August 22, 2021 | 4:57 pm

ভালুকা প্রতিদিনঃ করোনা মহামারিকে থামিয়ে দিতে বিশ্বজুড়ে চলছে টিকার প্রয়োগ। তবে টিকা উদ্ভাবনে উন্নত দেশগুলো এগিয়ে গেলেও পিছিয়ে উন্নয়নশীল ও স্বল্পোন্নত দেশগুলো। বাংলাদেশ আমদানি করে দেশব্যাপী টিকার প্রয়োগ শুরু করলেও নিজস্ব উত্পাদনেও অনেকটা সাফল্যের কাছাকাছি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা গত বছরের ১৫ অক্টোবর গ্লোব বায়োটেক কর্তৃক আবিষ্কৃত এমআরএনএ ভ্যাকসিনকে কভিড-১৯ টিকার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। গত ডিসেম্বরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটি বিশেষজ্ঞদল বঙ্গভ্যাক্সের গবেষণাগার পরিদর্শন করে সব তথ্য-উপাত্ত ও প্রি-ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের নথিপত্র পর্যালোচনা করে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের অগ্রগতিতে সহযোগিতা করে। পরবর্তী সময়ে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর ওই গবেষণাগার ও উত্পাদনকেন্দ্র পরিদর্শন সাপেক্ষে গত ২৮ ডিসেম্বর ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের জন্য ‘বঙ্গভ্যাক্স’ উত্পাদনের অনুমতি দেয়।

গ্লোব বায়োটেক কর্তৃপক্ষ জানায়, ‘আমরা সরকারের সহযোগিতা পেয়েছি। যেমন—ঔষধ প্রশাসনের অনুমতি পেয়েছি। আমরা শুধু বিএমআরসির সহযোগিতা পাইনি। ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের নৈতিক অনুমোদন না দিয়ে বানরের শরীরে ট্রায়ালের জন্য শর্ত জুড়ে দেওয়ার অর্থ হচ্ছে এই ভ্যাকসিনটি যাতে উত্পাদন করতে বা অনুমোদন পেতে আরো অনেক সময় অতিবাহিত হয়। যদি বানরের শরীরে প্রয়োগের প্রয়োজন হতো তবে বিএমআরসি আরো পাঁচ মাস আগে গ্লোব বায়োটেককে এসব শর্ত উল্লেখ করতে পারত।’

গ্লোব বায়োটেক আরো জানায়, “আমেরিকা তাদের এমআরএনএ ভ্যাকসিন দিয়ে করোনার সংক্রমণ এবং মৃত্যুর ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ করেছে। আমরা যদি সময়মতো ‘বঙ্গভ্যাক্স’ মানবদেহে পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করে আশানুরূপ ফলাফলের ভিত্তিতে টিকা কার্যক্রম শুরু করতে পারতাম, তাহলে হয়তো আমাদের দেশেও করোনার নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হতো।”

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে গ্লোব বায়োটেক লিমিটেডের কোয়ালিটি অ্যান্ড রেগুলেটরির জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক ড. মোহাম্মদ মহিউদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, “আমাদের গবেষণাগারে কর্মরত বিজ্ঞানীদের অন্যান্য ওষুধের পাশাপাশি ভ্যাকসিন নিয়ে কাজ করার পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকায়, আমরা মহামারি প্রতিরোধে কভিড-১৯ শনাক্তকরণ কিট, টিকা এবং ওষুধ আবিষ্কার-সংক্রান্ত গবেষণা শুরু করি। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২০ সালের ২ জুলাই কভিড-১৯-এর টিকা উদ্ভাবনের ঘোষণা দিই। গ্লোব বায়োটেক কর্তৃক আবিষ্কৃত এমআরএনএ ভ্যাকসিনকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কভিড-১৯ ভ্যাকসিন তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে, যা আমাদের দেশের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। আমরা আমাদের উদ্ভাবিত টিকাটির বঙ্গভ্যাক্স নামকরণ করেছি। এই নামের ‘বঙ্গ’ একই সঙ্গে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বাংলাদেশের নামকে প্রতিনিধিত্ব করে। ড. কাকন নাগ এবং ড. নাজনীন সুলতানার নেতৃত্বে তরুণ বিজ্ঞানীদের একটি চৌকস দল এ টিকা আবিষ্কার করেছে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *