| |

অবহেলা নয়, অটিস্টিকদের আপনজন ভাবার পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশঃ এপ্রিল ০২, ২০২২ | ৭:১৪ অপরাহ্ণ

ভালুকা প্রতিদিন ডেস্ক: অবহেলা না করে অটিস্টিক ব্যক্তিদের আপনজন ভেবে তাদের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শনিবার বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবসে এই আহ্বান জানান সরকার প্রধান। সকালে গণভবন থেকে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের এই অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যোগ দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে সর্বস্তরের মানুষের কথা বিবেচনায় নিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে সবার সুন্দর জীবন পাওয়ার প্রত্যাশা রাখেন শেখ হাসিনা। এই দিবসটির মাধ্যমে অটিস্টিক ব্যক্তিদের নিয়ে সচেতনতা সৃষ্টির সুযোগ হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজকে জাতিসংঘ এই দিবসটি ঘোষণা দিয়েছে দেখে আমরা এটা উদযাপন করছি। উদযাপন শুধু না এর মাধ্যমে সমাজের কাছে আমরা একটা সচেতনতা সৃষ্টি করার সযোগ পাচ্ছি।
“কাজেই এরা (অটিস্টিক) আমাদের আপনজন এবং তাদেরকে দেখা তাদের যতœ নেওয়া, এটা সকল সুস্থ মানুষের দায়িত্ব ও কর্তব্য।”
অটিস্টিক ব্যক্তিরা যেন অবহেলার পাত্র না হয়ে ওঠেন, সে বিষয়েও সজাগ থাকার পরামর্শ প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “আমরা ছোট বেলায় শিখেছি কানাকে কানা বলিও না, খোঁড়াকে খোঁড়া বলিও না। এটা যেন সকল শিশুরা ছোটবেলা থেকেই শেখে। কাজেই সেই দিকটায় সবার বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে হবে।”
নানা ধরনের প্রতিবন্ধীদের কল্যাণে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের ফিরিস্তি তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

“সেই সময় অটিজম সম্পর্কে সচেতনতাটা আমাদের ছিল না। কিন্তু আমরা তখন ব্যবস্থা নেই এবং ১৯৯৯ সালে জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনও প্রতিষ্ঠা করি এবং তা পরিচালনার জন্য সিড মানিও আমি দিয়েছিলাম।”
মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের প্রচেষ্টায় দেশে-বিদেশে অটিজম নিয়ে সচেতনতা বেড়েছে বলেও অনুষ্ঠানে জানান তিনি। সায়মা নিউরো ডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডার এ্যান্ড অটিজম বিষয়ক জাতীয় উপদেষ্টা কমিটির সভাপতি।

শেখ হাসিনা বলেন, “পুতুল তার অক্লান্ত প্রচেষ্টায় দেশে ও বিদেশ অটিজমের গুরুত্ব, সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। মূলত তার কাছ থেকেই এটা শিখেছি এবং জেনেছি। সে যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করত, তখন আমি যেতাম এবং সেই সময় থেকেই এই সম্পর্কে কিছু ধারণা পাই।”

তিনি বলেন, “২০১৪ সালে নিউরো ডেভমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠা করি। এই ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠার পর থেকে দেশে অটিজমসহ নিউরো ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী (এনডিডি) ব্যক্তিদের জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রমও আমরা গ্রহণ করি।

“আমরা এই ট্রাস্টকে ১৪৩ কোটি টাকা অনুদান প্রদান করেছি। এই ট্রাস্ট থেকে ২০১৭ সাল থেকে এই পর্যন্ত ৫ হাজার ৭০১ জনকে ৪ কোটি ৬৯ লক্ষ টাকা অনুদান দেয়া হয়েছে।”

সর্বস্তরের মানুষের কথা বিবেচনায় নিয়ে দেশকেএগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, “উন্নত জীবন পাবে, সুন্দরভাবে বাঁচবে, সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা রাষ্ট্র পরিচালনা করে যাচ্ছি। আজকে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। সামনে আরও এগিয়ে যাবে।”

অনুষ্ঠানে প্রতিবন্ধী মানুষের স্থায়ী আবাসন ও কর্মসংস্থান নিশ্চিতে সেই ধরনে সুযোগসুবিধা সম্পন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পরিকল্পনর কথা জানান প্রধানমন্ত্রী।

“আমি আমাদের সমাজকল্যাণমন্ত্রীকে বলব একটা প্রজেক্ট নিয়ে আসতে। আমাদের আটটা বিভাগ আছে । প্রতিটা বিভাগেই করে দেব। পর্যায়ক্রমে প্রত্যেক জেলায় আমরা করে দেব।”

সমাজের বিত্তশালীদের সমাজকল্যাণমূলক কাজে পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমি বলব, অনেক টাকা-পয়সা অনেকের কিন্তু হয়ে গেছে। অনেক বেশি। আমাদের অর্থনীতি যত বেশি শক্তিশালী হচ্ছে দারিদ্র্য বিমোচন হচ্ছে, গ্রামের মানুষ যেমন আর্থিক স্বচ্ছলতা পাচ্ছে আবার যারা অর্থ বানাচ্ছেন তাদেরও অর্থ হচ্ছে।

“কিছু এখানে ব্যয় করলে সেটা দেশের কাজে লাগবে। যথাযথ কাজে লাগবে সেটাই আমি মনে করি।”

বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবসের এই অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ, প্রতিমন্ত্রী মো. আশরাফ আলী খানসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *