| |

প্রশান্ত কুমার হালদার : সকল সম্পদ ফেরত আনা হোক

প্রকাশঃ মে ১৬, ২০২২ | ৮:২১ অপরাহ্ণ

অবশেষে আলোচিত জালিয়াত প্রশান্ত কুমার হালদার ওরফে পি কে হালদার গ্রেপ্তার হলেন। গত শনিবার তাকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। তার বিরুদ্ধে চারটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় সাত হাজার কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুদক। গ্রেপ্তারের পর পি কে হালদারের পাচার করা টাকা ফেরত আনা নিয়ে নানা ইস্যু সামনে আসছে। বিশেষ করে পি কে হালদারকে দেশে আনার কথা সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে সরকারকে টাকা ফেরত আনার উদ্যোগ নিতে হবে। এত মানুষের কষ্টের টাকা, এভাবে বেহাত হাতে পারে না। আইনজীবীরা বলছেন, মিউচ্যুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিসট্যান্স আইন ২০১২ অনুযায়ী, পৃথিবীর ১৩২টি দেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা যায়। পি কে হালদারের টাকাও ফেরত আনা সম্ভব। এর আগে তাকে দেশে আনতে হবে। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বহিঃসমর্পণ আইন ও চুক্তি রয়েছে। এই আইনের আওতায় পি কে হালদারকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। জানা গেছে, সর্বশেষ এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ছিলেন। পি কে সিন্ডিকেটের অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় দুদক অদ্যাবধি ২২টি মামলা করেছে। অনুমোদিত ১৩টি হলে মামলা হবে ৩৫টি। মামলাগুলোতে ২ হাজার কোটি টাকার ওপর আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। অদ্যাবধি এসব মামলায় ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এসব মামলায় আদালত ৬৯ জনকে দেশত্যাগের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন।

এছাড়া ২০২১ সালের অক্টোবরে পি কে হালদারের বিরুদ্ধে করা অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় আদালতে চার্জশিটও (অভিযোগপত্র) দেয়া হয়েছে। আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুসহ সিন্ডিকেটের সহায়তায় কয়েকটি লিজিং কোম্পানি থেকে অন্তত ১০ হাজার ২০০ কোটি টাকা সরিয়ে পি কে হালদার দেশ থেকে সটকে পড়েন। এ অর্থের বড় একটি অংশ কানাডা, ভারত ও সিঙ্গাপুর পাচার করেন। জালিয়াতি করে দেশ থেকে অর্থ ও সম্পদ পাচার করে বিদেশে স্থায়ী নিবাস গড়ে তোলার প্রবণতা নিকট অতীতে বেড়েছে। পাচার হওয়া সম্পদের অধিকাংশই দুর্নীতি ও অবৈধ প্রক্রিয়ায় অর্জিত। ভারত সরকার বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনতে জাতিসংঘের সহায়তা নিয়ে সফল হয়েছে। অবৈধভাবে নিয়ে যাওয়া সম্পদ সফলভাবে ফেরতও এনেছে কিছু ক্ষেত্রে। বাংলাদেশও অবৈধ অর্থ ফেরত আনতে জাতিসংঘের সহায়তা নিতে পারে। যারা অর্থ পাচার করছে, তাদের চিহ্নিত করা কঠিন কিছু নয়। পি কে হালদার একটি চরিত্রমাত্র। এমন অসংখ্য অপরাধী ধরাছোঁয়ার বাইরে আছে। দেশ থেকে অর্থ পাচার অত্যন্ত উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। উন্নয়নশীল দেশগুলোর অবৈধ আর্থিক প্রবাহ বা মুদ্রা পাচার নিয়ে গবেষণা ও বিশ্লেষণকারী ওয়াশিংটনভিত্তিক আন্তর্জাতিক অলাভজনক সংস্থা গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটির (জিএফআই) তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ বছরে বাংলাদেশ থেকে অন্তত ৫ লাখ ৩৩ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে। এ অঙ্ক আমাদের মোট জাতীয় বাজেটের দ্বিগুণ। অর্থ ও সম্পদ পাচারবিরোধী কঠোর আইন থাকলেও তার কার্যকারিতা নেই। বিদেশে পাচার করা সমুদয় অর্থ ফেরত আনার উদ্দেশ্যে আইনের যথাযথ প্রয়োগ যেমন জরুরি, তেমনি দেশে বিনিয়োগের অনুকূল ও অভয় পরিবেশ নিশ্চিত করাও সরকারের দায়িত্ব। সরকারকে প্রথমেই শক্ত হাতে দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরে সব সেক্টরে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ব্রেকিংঃ